মঙ্গলবার, ০৭ Jul ২০২৬, ০৮:০৮ অপরাহ্ন

আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করলেন নিক্সন

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবর রহমান চৌধুরী নিক্সন। এর পাশাপাশি তিনি ফরিদপুরের জেলা প্রশাসকের (ডিসি) বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান এই সংসদ সদস‌্য। এ সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরেন।

চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচন পরবর্তী এক সমাবেশে প্রশাসনকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে নিক্সন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছেন ফরিদপুরের ডিসি।

সংবাদ সম্মেলনে নিক্সন চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচন চলাকালে, এমনকি নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার সময় আমি চরভদ্রাসন এলাকায় যাইনি। ভোট শেষ হওয়ার পর প্রশাসনের তাণ্ডবে ক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীদের শান্ত করতে প্রশাসনের অনুরোধে সেখানে গিয়েছিলাম।’

সোশ‌্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত বক্তব্য ও ইউএনও’র সঙ্গে কথা বলার অডিও ক্লিপ ‘সুপার এডিটেড’ বলে দাবি করেছেন এই সংসদ সদস‌্য।

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সোশ‌্যাল মিডিয়ায় আমার যে বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে, এটা পুরোপুরি এডিট করা। সকাল ১১টার দিকে আমি ইউএনওকে ফোন করেছিলাম যে, আমার একজন কর্মীকে মাঠে দাঁড়িয়ে সিগারেট খাওয়ার অপরাধে ম্যাজিস্ট্রেট ও বিজিবি ধরে নিয়ে গিয়েছিল। সে বিষয়টা অবগত করার জন্যই আমি ফোন করেছিলাম। আর যেটা ছড়ানো হয়েছে সেটা সুপার এডিট করা।‘

‘হাইকোর্টের সুস্পষ্ট ব্যাখ‌্যা আছে, রায় আছে, কারও ফোনকলের রেকর্ড সোশ‌্যাল মিডিয়ায় দেওয়া যাবে না। আমার ইউএনও এত বোকা না যে, তিনি আইনের লোক হয়ে আইন ভঙ্গ করে সোশ‌্যাল মিডিয়াতে এটা দিয়ে ভাইরাল করবে। এখন পর্যন্ত আমার বিষয়ে ইউএনও’র কোনো বক্তব্য কিন্তু আসেনি,’ বলেন নিক্সন চৌধুরী।

নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি শান্ত করতে প্রশাসনের অনুরোধে নির্বাচনী এলাকার একটি রাস্তায় দাঁড়িয়ে নেতাকর্মীদের গণ্ডগোল না করার নির্দেশনা দিয়েছেন বলে দাবি করেন সংসদ মুজিবর রহমান চৌধুরী নিক্সন।

তিনি অভিযোগ করেন, ‘চরভদ্রাসন উপজেলায় উপ-নির্বাচন পরিচালনার জন্য চারজন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। নির্বাচনের দিন দেখা গেলো, সেখানে ১৩ জন ম্যাজিস্ট্রেট। এই ম্যাজিস্ট্রেটরা সারা দিন আমার নেতাকর্মীদের ওপর তাণ্ডব চালিয়েছে। নৌকার ভোটারদের ভয়-ভীতি দেখানো হয়েছে। এর প্রতিবাদে নেতাকর্মীরা ইউএনও কার্যালয়ে গিয়েছিল। প্রশাসন থেকে আমাকে রিকোয়েস্ট করে নিয়ে গেছে। আমি নির্বাচনবিধি অমান্য করিনি। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর নেতাকর্মী এবং ভোটারদের শান্ত করতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে তাদের বুঝিয়েছি।’

ফরিদপুরের ডিসি নির্বাচনে পক্ষপাতিত্ব ও ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছেন, এ অভিযোগ করে তার বিচার দাবি করেন নিক্সন চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘আমার সমর্থিত প্রার্থীকে ঠেকানোর জন্য ও বিএনপির প্রার্থীকে জেতাতে ডিসি সাহেবের নেতৃত্বে এই তাণ্ডবগুলো চালালো হয়েছে। আমি আইন ভঙ্গ করে থাকলে অবশ্যই আমার বিরুদ্ধে মামলা হবে। আইন তো ডিসিও ভঙ্গ করেছে। যদি আমার একার বিরুদ্ধে মামলা হয়, তাহলে ডিসির বিরুদ্ধেও মামলা হবে।’

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ডিসির নানা অপকর্মের নির্দেশনার অডিও সংরক্ষণে আছে বলে দাবি করেন নিক্সন চৌধুরী।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com